বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
গণহত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ৩৯ জন!
অনলাইন ডেস্ক
জুলাই-আগস্টে দেশজুড়ে সংঘটিত হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি পৃথক মামলায় অভিযুক্ত ৩৯ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আনিসুল হক, দীপু মনি, আমির হোসেন আমু, সালমান এফ রহমান ও জুনাইদ আহমেদ পলক।
রবিবার (২০ জুলাই) কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এ মামলার শুনানি হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ এ।
গণমাধ্যম জানায়, এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল এই ৩৯ জনসহ মোট ৪৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশ অনুযায়ী, আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান, জুনাইদ আহমেদ পলকসহ ১৬ জনকে ফেব্রুয়ারিতেই ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
অন্য অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন, সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান, দীপু মনি, আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, কামাল আহমেদ মজুমদার, গোলাম দস্তগীর গাজী, আমির হোসেন আমু, কামরুল ইসলাম, উপদেষ্টা তৌফিক-ই ইলাহী চৌধুরী, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের হাসানুল হক ইনু, সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম।
২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর, জুলাই-আগস্ট গণহত্যা সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত দুই মামলায় শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে দুই মাস সময় বেঁধে দেন ট্রাইব্যুনাল।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিরস্ত্র জনতার ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশদাতা হিসেবে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া চলছে। আন্দোলন দমন করতে আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে গুলিবিদ্ধ হন বহু ছাত্র-জনতা। এই ঘটনার পর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করে।